বাড়ছে হাম: শিশুকে কখন স্কুলে না পাঠানো উচিত—অভিভাবকদের জন্য জরুরি গাইড
হাম বাড়ছে, সতর্ক হোন!
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬ |
হাম রোগের সংখ্যা বাড়ছে: কখন আপনার শিশুকে স্কুলে না পাঠানো উচিত?
![]() |
| ছবি: MBF News – প্রতীকী |
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে—বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। তাই এই সময় শিশুকে কখন স্কুলে পাঠানো নিরাপদ এবং কখন না পাঠানো উচিত—এ বিষয়টি জানা অভিভাবকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অসতর্কতাও অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
হাম কী এবং কীভাবে ছড়ায়
হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সহজেই অন্য শিশুর শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।
স্কুল, ডে-কেয়ার বা ভিড়পূর্ণ জায়গায় এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থাকে।
শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ
হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- জ্বর
- কাশি ও সর্দি
- চোখ লাল হওয়া
- ত্বকে লাল ফুসকুড়ি
- শরীর দুর্বল লাগা
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে শিশুকে বাড়িতে রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
কখন শিশুকে স্কুলে না পাঠানো ভালো
১. জ্বর থাকলে
শিশুর শরীরে জ্বর থাকলে তাকে স্কুলে না পাঠানোই ভালো। জ্বর সংক্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
২. ফুসকুড়ি দেখা দিলে
ত্বকে লাল ফুসকুড়ি দেখা দিলে তা হামের লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থায় শিশুকে অন্যদের থেকে দূরে রাখা জরুরি।
৩. কাশি ও সর্দি বেশি হলে
অতিরিক্ত কাশি বা সর্দি থাকলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। তাই এই সময় স্কুলে না পাঠানো উচিত।
৪. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী
চিকিৎসক যদি শিশুকে বিশ্রামে রাখতে বলেন, তবে অবশ্যই সেই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
কতদিন স্কুলে না পাঠানো উচিত
হামের ক্ষেত্রে সাধারণত ফুসকুড়ি ওঠার পর কয়েকদিন পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। তাই এই সময় শিশুকে বাড়িতে রাখা নিরাপদ।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলে না পাঠানোই ভালো।
স্কুলে পাঠানোর আগে করণীয়
শিশু পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। জ্বর না থাকা, ফুসকুড়ি কমে যাওয়া এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা জরুরি।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া যেতে পারে।
অভিভাবকদের সচেতনতা
অভিভাবকদের উচিত শিশু অসুস্থ হলে তা গোপন না করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো। এতে অন্য শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া শিশুকে নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শেখানো জরুরি।
টিকা গ্রহণের গুরুত্ব
হামের টিকা এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
টিকাকার্ড নিয়মিত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে শিশুর সব ডোজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
স্কুলগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং অসুস্থ শিশুদের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজনে সাময়িক ছুটি বা সতর্কতা জারি করা যেতে পারে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচারণা চালানোও গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার এই সময়ে শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। কখন স্কুলে পাঠানো উচিত এবং কখন না পাঠানো উচিত—এই বিষয়টি জানা থাকলে অনেক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
MBF News স্বাস্থ্য ও সচেতনতা বিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাচ্ছে।
