এসব ছোট ছোট কৌশল আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়াবে

বয়সের ভারে হোক বা কাজের চাপে, ভুলে যাওয়ার সমস্যা আজকাল আমাদের অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। চশমাটা কোথায় রাখলেন, পরিচিত নামও হুট করে মনে পড়ছে না কিংবা প্রয়োজনীয় ফাইলটি কোথায় রেখেছেন, তা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন? এমন অভিজ্ঞতা হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। 
এসব ছোট ছোট কৌশল আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়াবে
ছবি: MBF News
বয়সের ভারে হোক বা কাজের চাপে, ভুলে যাওয়ার সমস্যা আজকাল আমাদের অনেকেরই নিত্যসঙ্গী।


হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মৃতিশক্তি কোনো স্থির বিষয় নয়; বরং নিয়মিত চর্চা ও সঠিক কৌশলের মাধ্যমে একে যেকোনো বয়সেই শাণিত করা সম্ভব।


মনোযোগই হলো মূল চাবিকাঠি
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো কোনো বিষয়ে পর্যাপ্ত মনোযোগ না দেওয়া। আমরা যখন একসঙ্গে অনেক কাজ করি, তখন মস্তিষ্ক কোনো তথ্যই স্থায়ীভাবে জমা করতে পারে না। 

হার্ভার্ডের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো নতুন তথ্য শোনার বা দেখার সময় সেটির দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিন। কোনো কিছু শোনার পর তা মনে মনে বা জোরে কয়েকবার আওড়ান। 

একে বলা হয় ‘রিহার্সাল। কারও নাম শোনার পর কথা বলার সময় তাঁর নাম বারবার ব্যবহার করলে তা মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী হয়।

তথ্য মনে রাখার আধুনিক কৌশল
বড় কোনো তথ্য মনে রাখা কঠিন হলে তাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন। 

যেমন একটি দীর্ঘ মোবাইল নম্বর মনে রাখার সময় তা তিন বা চার সংখ্যার ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন। 

আবার জটিল তথ্য মনে রাখতে বিশেষ সংকেত বা ছন্দ ব্যবহার করতে পারেন। কোনো নতুন তথ্যের সঙ্গে আপনার ইতিমধ্যে জানা আছে—এমন কোনো ঘটনার যোগসূত্র স্থাপন করলে তা মনে রাখা সহজ হয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘অ্যাসোসিয়েশন’।

জীবনযাত্রায় আনুন ইতিবাচক পরিবর্তন
স্মৃতিশক্তি কেবল মস্তিষ্কের ব্যায়াম নয়, এটি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার ওপরও নির্ভর করে। 

পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কে তথ্য গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাব আমাদের বিচারবুদ্ধি ও স্মৃতি—দুটোই এলোমেলো করে দেয়। 

পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল রাখা জরুরি।

প্রযুক্তির সাহায্য নিন
সব তথ্য মস্তিষ্কে জমা করার বাড়তি চাপ না দিয়ে ক্যালেন্ডার, স্মার্টফোন রিমাইন্ডার বা নোটবুক ব্যবহার করুন। 

এতে মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সময়মতো সম্পন্ন করা যায়।

স্মৃতিশক্তিকে একটি পেশির মতো কল্পনা করুন। একে যত বেশি ব্যবহার এবং সঠিক যত্ন করবেন, এটি তত বেশি শক্তিশালী হবে। 

আজকের এই ছোট ছোট কৌশল আপনার প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ে আসতে পারে বড় পরিবর্তন।



জীবনযাপন থেকে আরো পড়ুন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url