৮২ ম্যাচের সব কটিতেই জয়! ফুটবল ইতিহাসে এ এক অবিশ্বাস্য রূপকথা

ফুটবলে ‘ইনভিন্সিবল’ বা ‘অপরাজেয়’ তকমাটা আর্সেনালের সেই বিখ্যাত মৌসুমের জন্য বরাদ্দ। কিন্তু তুর্কমেনিস্তানের এক অখ্যাত ক্লাবের কীর্তি শুনলে আর্সেন ওয়েঙ্গারও হয়তো চশমাটা ঠিক করে নিয়ে একবার হিসাব মিলিয়ে দেখতেন। ক্লাবটির নাম এফকে আরকাদাগ। ২০২৩ সালের এপ্রিলে জন্ম, আর এর মধ্যেই তারা ফুটবল ইতিহাসের সব গাণিতিক হিসাব উল্টে দিয়েছে।

৮২ ম্যাচের সব কটিতেই জয়! ফুটবল ইতিহাসে এ এক অবিশ্বাস্য রূপকথা
ছবি: MBF News
তুর্কমেনিস্তানের ক্লাব আরকাদাগ।


রেকর্ড বই বলছে, জন্মের পর থেকে লিগে আজ পর্যন্ত একটি পয়েন্টও হারায়নি তারা। ৮২ ম্যাচের সব কটিতে জয়! 


টানা তিনবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে তাদের এই জয়যাত্রা যতটা না ফুটবলীয়, তার চেয়েও বেশি বোধ হয় রাজনৈতিক ক্ষমতার এক প্রদর্শন।


এই দাপটের উৎস খুঁজতে গেলে ফুটবল মাঠ ছাড়িয়ে আপনাকে তাকাতে হবে তুর্কমেনিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট গুরবানগুলি বেরদিমুহামেদভের দিকে। তাঁর উপাধি ‘আরকাদাগ’—যার অর্থ ‘রক্ষাকর্তা।


 ৩৩০ কোটি ডলার খরচ করে তিনি যে ‘স্মার্ট সিটি’ বানিয়েছেন, সেই শহরের নামেই এই ক্লাব। আর সেই নামের মহিমা রাখতেই কি না, পুরো দেশের সেরা সব ফুটবলারকে এক ছাদের নিচে জড়ো করে বানানো হয়েছে এক ‘ড্রিম টিম। 


যে লিগে কোনো বিদেশি খেলোয়াড় নেই, সেখানে ঘরের সব সেরা প্রতিভা এক দলে থাকলে যা হয়—পুরো তুর্কমেন ফুটবলই এখন আরকাদাগের পকেটে।


লিগের পাশাপাশি ঘরোয়া কাপেও তারা রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। ১৪টি কাপ ম্যাচের সব কটিতে জিতে তারা ঘরে তুলেছে তিনটি তুর্কমেনিস্তান কাপ আর দুটি সুপার কাপ। 


তবে আরকাদাগের এই অজেয় রথ থেমেছে শেষ পর্যন্ত মহাদেশীয় মঞ্চে গিয়ে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে কুয়েতের আল আরাবির কাছে হেরে তাদের ৬১ ম্যাচের টানা জয়ের রেকর্ড থামে। 


যদিও শেষ হাসিটা তারাই হেসেছে—প্রথমবার অংশ নিয়েই টুর্নামেন্টের ট্রফিটা জিতে নিয়েছে তুর্কমেনরা।গল্পের মোড় এরপর ঘোরে এবারের এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-তে।


গ্রুপ পর্বের বৈতরণি পার হয়ে নকআউট পর্বে তাদের সামনে এসে দাঁড়াল সৌদি আরবের মহা তারকাখচিত ক্লাব আল নাসর। 


ফুটবল রোমান্টিকরা চাতক পাখির মতো চেয়ে ছিলেন এক দ্বৈরথের দিকে—আরকাদাগ বনাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।


কিন্তু ১১ ফেব্রুয়ারি তুর্কমেনিস্তানের মাটিতে প্রথম লেগের ম্যাচে সিআরসেভেনকে দেখা গেল না। গুঞ্জন উঠল, পিআইএফ-এর ওপর অভিমানে তিনি ম্যাচ বয়কট করেছেন। 


রোনালদোবিহীন আল নাসর ১-০ গোলে জিতল। মাঝে লিগে একটি ম্যাচ খেললেও ১৮ ফেব্রুয়ারি ফিরতি লেগে রিয়াদেও আরকাদাগের বিপক্ষে রোনালদোকে নামানো হলো না। সেখানেও স্কোরলাইন সেই একই, ১-০।


পাঁচটা ব্যালন ডি’অর কিংবা হাজার ছোঁয়া গোলের মালিক রোনালদো কি তবে তুর্কমেনিস্তানের এই ‘অজেয়’ দুর্গের সামনে দাঁড়াতে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন?



ফুটবল থেকে আরো পড়ুন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url