বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর ‘সহযোদ্ধা’ স্বজনদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ চালু

ক্যানসার এমন এক রোগ, যার বিরুদ্ধে একজন রোগী একাই লড়েন না। রোগীর কোনো না কোনো স্বজনও হয়ে ওঠেন তাঁর সহযোদ্ধা। এই সহযোদ্ধাকে জানতে হয় রোগীর চিকিৎসা এবং চিকিৎসা–পরবর্তী সময়কার যত্নের আদ্যোপান্ত। ক্যানসার রোগীর স্বজনদের জন্য এসব বিষয় সহজ করে তোলার প্রয়াসে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ চালু করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।


বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর ‘সহযোদ্ধা’ স্বজনদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ চালু
ছবি: MBF News
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাহিনুল আলম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। মঞ্চে (বাঁ থেকে) অধ্যাপক তৌফিক হাসান ও অধ্যাপক মো. আকরাম হোসেন।


বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।


একই অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা হয় ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড ব্যবস্থার।


বৃহস্পতিবার ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই দুই উদ্যোগের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য মো. শাহিনুল আলম। 


তিনি বলেন, ক্যানসার রোগীর কেয়ারগিভারদের (যিনি তাঁর দেখভাল করেন) জন্য এই বিশেষ প্রশিক্ষণে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ অগ্রদূত হয়ে থাকবে।



আর ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ডের মাধ্যমে একজন রোগীর প্রয়োজনীয় সব তথ্য নথিভুক্ত করার সুযোগ থাকবে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা এবং উদ্ভাবনীমূলক কাজেও এই প্রযুক্তি সহায়ক হয়ে উঠবে।



ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন বলেন, একজন ক্যানসার রোগীকে চিকিৎসা চলাকালীন এবং চিকিৎসা–পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হতে পারে। প্রতিটি সমস্যার জন্যই চিকিৎসকের কাছে ছুটে আসার প্রয়োজন হয় না। 



কিছু সাধারণ বিষয় বাড়িতেও সামলানো যায়। যদি একজন রোগীর কেয়ারগিভার এসব বিষয়ে প্রশিক্ষিত হয়ে থাকেন, তাহলে বিষয়টা অনেক সহজ হয়ে যায়।



তিনি আরও জানান, যেসব রোগীর প্রতিবার হাসপাতালে আসার ঝক্কি পোহানোর প্রয়োজন নেই, ভবিষ্যতে অনলাইন মাধ্যমেও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড–ব্যবস্থায় প্রতিটি রোগীর জন্য থাকবে একটি অনন্য আইডি নম্বর। সেই নম্বরেই সংরক্ষিত থাকবে তাঁর সব ধরনের ক্লিনিক্যাল তথ্য। 


চিকিৎসক আবার এসব ক্লিনিক্যাল তথ্য থেকে কেস সামারি তৈরি করে নিতে পারবেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়। 


রোগীর চিকিৎসার সব ধাপ নথিভুক্ত করা হবে সফটওয়্যারেই। চিকিৎসক ছাড়পত্রও লিখবেন এই সফটওয়্যারে। 


এ ধরনের সেবা করপোরেট হাসপাতালগুলোতে দেওয়া হয়ে থাকে। দেশের সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের রোগীরা আগে এ ধরনের সেবা পাননি।



অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের শিক্ষক ও চিকিৎসক, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী এবং রোগীর স্বজনেরা। 


আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান তৌফিক হাসান এবং তাঁর দলের সদস্যরা। ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড–ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দিকটির দায়িত্বে ছিলেন তিনি এবং তাঁর দল।


রোগীর স্বজনদের প্রশিক্ষণের কাজটিতে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগকে সহায়তা করছে রোশ বাংলাদেশ। উদ্বোধনের পর রোগী এবং রোগীর স্বজনদের নিয়ে প্রশিক্ষণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। 



একজন ক্যানসার রোগীর জীবনধারার নানা দিক সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয় এই পর্বে। এরপর তাঁদের জন্য ছিল উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব।



বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url