পাকিস্তান প্রমাণ করল তারা কেন পাকিস্তান

রান তাড়ায় একটা সময় পাকিস্তানের রান লাগত ৯ ওভারে ৫০। হাতে ৮ উইকেট। উইকেটে বাবর আজম ও সাহিবজাদা ফারহান। সেখান থেকে পাকিস্তানের শেষ ২ ওভারে দরকার হয় ২৯ রান। হাতে মাত্র ৩ উইকেট। ক্রিজে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফ।


পাকিস্তান প্রমাণ করল তারা কেন পাকিস্তান
ছবি: MBF News
৩ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান


বলা যায় নেদারল্যান্ডস তখন জয়ের ঘ্রাণ পাচ্ছিল। কিন্তু পাকিস্তান বলে কথা! সেই ২৯ রান পাকিস্তান করেছে ৯ বলে। শেষ পর্যন্ত কলম্বোতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৪৭ রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান।



এভাবেও জেতা যায়!

নেদারল্যান্ডস: ১৯.৫ ওভারে ১৪৭। পাকিস্তান: ১৯.৩ ওভারে ১৪৮/৭। ফল: পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।


অথচ জয়টি আসতে পারত খুব সহজেই। হয়তো পাকিস্তান ক্রিকেটে সহজ বলে কিছু নেই। নইলে ২ উইকেটে ৯৮ রান তোলা একটি দল কীভাবে ১১৪ রানে ৭ উইকেট হারায়!


ভাবা যায়, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তান ১৬ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়েছে! এরপরও যে পাকিস্তান জিতল তা মূলত অলরাউন্ডার ফাহিমের কল্যাণে।


শেষ ২ ওভারে ২৯ রানের সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে লোগান ফন বিকের এক ওভারে ৩ ছক্কা ও এক চার মারেন ফাহিম। তাতে নেদারল্যান্ডস ফিল্ডার ম্যাক্স ও’ডাউডের খানিকটা অবদান আছে। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফাহিমের ক্যাচ ছেড়েছেন তিনি।


ওই ক্যাচটি নিতে পারলে হয়তো ফল অন্যরকম হতো। ১৯তম ওভারে ২৪ রান নেওয়ার পর পাকিস্তানের শেষ ওভারে লাগত ৫ রান, তিন বলের মধ্যেই সেই কাজ সেরেছে পাকিস্তান।


এই জয়ের পরও ‘বাবর আজম সমস্যা’ থেকেই যাবে পাকিস্তানের। বাবর চার নম্বরে যখন উইকেটে আসেন পাকিস্তানের রান ৪.৫ ওভারে ৫৩। এমন সুবিধাজনক পরিস্থিতিতেও ১৮ বলে ১৫ রানের ওয়ানডে ইনিংস খেলেন বাবর। তাতে কিছুটা হলেও দল চাপে পড়েছে।




কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডের উইকেটও তেমন কঠিন কিছু ছিল না। ফারহানের ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ৪৭, সাইম আইয়ুরের ১৮৩ স্ট্রাইক রেটে ২৪ রানই এর প্রমাণ। 



শেষদিকে তো ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রান করলেন ফাহিম। বাবরকে জায়গা দিতে একাদশে জায়গা পাননি ফখর জামান।



টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নেদারল্যান্ডসের শুরুটা হয় ভালোই। প্রথম পাওয়ার প্লেতে দলটি তোলে ২ উইকেটে ৫০ রান। ১২.১ ওভারে পৌঁছে যায় ১০০ রানে।


 তখন নেদারল্যান্ডসের হাতে ছিল ৭ উইকেট। নেদারল্যান্ডসের রানটা তখন বেশ বড় হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। 


তবে শেষ ৫ ওভারে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডস শেষ ৫ ওভারে ২৬ রান করতে হারায় ৬ উইকেট।


পাকিস্তান আজ চমক দেখিয়েছে ফিল্ডিংয়েও। বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে যে দলটি প্রায়ই সমালোচিত হয়, তারাই আজ ক্যাচিং ও ফিল্ডিংয়ে ছিল দুর্দান্ত। মোট ৯টি ক্যাচ ধরেছে তারা, যার কয়েকটি নিঃসন্দেহে পরেও আলোচনায় থাকবে।


৩ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান
ছবি: MBF News
মাইকেল লেভিটকে যেভাবে আউট করেছেন বাবর ও আফ্রিদি


বিশেষ করে ওপেনার মাইকেল লেভিটকে বাউন্ডারিতে যেভাবে ক্যাচ ধরে আউট করেছেন বাবর আজম ও শাহিন শাহ আফ্রিদি, সেটি ছিল চোখে লেগে থাকার মতো। 


১৫ বলে ২৪ রান করা লেভিটের ক্যাচ নিতে গিয়ে বাবর বাউন্ডারির বাইরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে পেছনে বল ছুড়ে দেন, আর ঠিক সময়ে পেছনে উপস্থিত হয়ে শাহিন আফ্রিদি ক্যাচের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।


এর আগে তৃতীয় ওভারে ম্যাক্স ও’ডাউডকে বেশ খানিকটা দৌড়ে গিয়ে দৃষ্টিনন্দন ক্যাচ নিয়ে আউট করেন উইকেটকিপার উসমান খান। গ্রুপ ‘এ’ তে থাকা পাকিস্তানের পরের ম্যাচ ১০ ফেব্রুয়ারি, খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।



ক্রিকেট থেকে আরো পড়ুন।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url